মৃত্যু

আজ আর কোন গল্প নেই।
মরন দেখে এলাম খাটের উপর বাঁশের তালায় ঝুলে আছে।
জানো এখন ভাল থাকতে আমার একদম কষ্ট হয় না।
খুব সহজ ভাবেই ভাল থাকি।
দূর আকাশের কালো মেঘ গুলোর মত ভেসে ভেসে,
খাঁচায় বন্দি পাখিটির মত আপন সুখে গান গাই।
খুব সহজেই ভাল থাকি এখন তোমাকে ছাড়াই!
ভালবাসা তো আর পানি নয় আন্তর্জাতিক আইনও নেই।
তাই উজানের প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সরকার,
বাঁধ দিয়ে যায়।
ভালবাসা প্রত্যাহার করে নেয় বারবার।

লাশ

দুহাতে একটা লাশ নিয়ে বসে আছি
নবীন কবির আধুনিকতার নামে অত্যাচারে অপমৃত্যু হয়েছে তার।

বালিকা এবং কুকুর

অসংখ্য মাংস লোভী কুকুরের দল দেখে আসলাম বালিকার সারা উঠোন জুড়ে।
কেউ কেউ লেজ নাড়িয়ে বালিকার মনোযোগ পেতে সদা ব্যস্ত।
সারা উঠোন জুড়ে গড়াগড়ি দিতেও দেখলাম কয়েকটাকে।
দূরে বসে আয়েশি ঢঙে লালা ঝড়াচ্ছে বুড়ো কুকুরের দল।
উঠোনের পিছনে খিড়কী দরজায় আরেক দলের আনাগোনা।
কে নেই তাতে? সদ্য বয়ঃপ্রাপ্ত অতি উৎসুক নবীন কুকুরের দল থেকে দলের সবচেয়ে গুরুগম্ভীর বৃদ্ধ কুকুরটিও।
বালিকার মন যোগাতে অতি ব্যস্ত।

নামহীন (উপন্যাস)

ততোদিনে সব কিছু সয়ে গেছে এই পোড়া শরীরে।
নতুন কিছু নেই রাতে বাবুরা আসে ঘাম ঝড়িয়ে যায়, ম্যানিব্যাগ হতে চকচকে নতুন একশ, পাঁচশ টাকার নোট, ময়লা,শতভাজ পরা টাকা সব চলে, যা আসে তাতেই মাসী খুশি হয়।
তেমন কঠিন কিছু লাগে না আর মনের দরজা বন্ধ করে চিত হয়ে শুয়ে থাকলেই হলো।
কাজলি আপা বলে যায়, মাগি বেশি নকরামি করবি তো বুঝবি। তার চেয়ে সব মাইনা নে।
এটাই আমাগো জীবন রে বইন।
মনের ঘরে তালা বাইন্ধা শুইয়া থাকবি, চার পাঁচ মিনিটেরি তো ব্যাপার।  সব বেটাগোর দম দেহা আছে। দুই মিনিটেই মাল আউট।
ঘামের গন্ধ আইলে দম বন্ধ করে শুইয়া থাকবি।

এই নোংরা, নষ্ট জীবনেও মাঝে মাঝে কৌতুহল আসে, কাজলি আপা কে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে "তুমি তো আমাদের মত করে কথা বলতে পারো তাহলে এরোকম করে কথা বলো কেনো? তুমি তো মুক্ত, আমার মত কোন মাসী নামের ডাইনি তোমাকে আটকে রাখেনি তুমি এই নরক থেকে চলে যাও না কেন?"

আমাকে চুপ থাকতে দেখে কাজলি আপা বলে উঠে, ঐ মাগি, চুপ করে আছো কেন? কি বুঝলা? এইহানের নিয়ম কানুন যত তারাতারি মাইনা নিতে পারবা, শিখতে পারবা ততো ভাল থাকবা বুইজ্জো?

যাইগা, নিজেরে সাইজা গুইজা লও। বাবুসাব গনের আহনের টাইম অইতাছে।

কোথায় ছিলাম আমি, আর এখন কোথায়!
দিনাজপুর! সুখের নীর, বাবা, মা, বোন কে ছেড়ে তাদের কাঁদিয়ে কত স্বপ্নে বিভোর হয়ে বের হয়ে ছিলাম আমি!

ঐ ছেমড়ি সাইজা লও আট টা বাজে বাবুদের আহনের টাইম হইছে।

বিকেল সারে পাঁচটার বাসে উঠেছিলাম আমরা, হানিফ পরিবহন। কালিতলার থানার পাশের কাউন্টারে। ঢাকা টু চট্টগ্রাম।
স্পষ্ট মনে আছে কাউন্টারের পাশের দোকান থেকে সে আমার জন্য হাফ লিটারের প্রাণ কোম্পানির আমের জুস কিনে এনেছিলো।

বলেছিলো, বেবি তুমি একদম দুশ্চিন্তা করো না, আই উইল ম্যানেজ। এভেরিথিং উইল বি ফাইন। আমরা প্রথমে কক্সেসবাজার যাবো, সেন্টমার্টিন যাবো কয়েকদিন সেখানে হানিমুন করে ঢাকায় ব্যাক করবো। আমি জবে জয়েন করবো। আর এই কয়দিনের ভিতরে আমার ফ্রেন্ড আমাদের জন্য বাসা ম্যানেজ করে ফেলবে।

আমার তার উপর বিশ্বাস ছিল।
তৃতীয়বার যখন দুর্ঘটনা টি ঘটলো আমি চাইনি একদম চাইনি আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো।
আমি তাকে বিশ্বাস করতাম।
সে বলেছিলো, বেবি লেট মি হ্যান্ডেল দিজ, তুমি এইবারের মত আমার কথা শুনো এটা ফেলে দাও। আমি কথা দিচ্ছি আই উইল টেক ইউ এ্যা লং এওয়ে।

সে কথা রেখেছে, আজ আমরা যাচ্ছি। আমাদের সুখের সংসার হবে। কেউ থাকবে না বাঁধা দেওয়ার। না সমাজ না ধর্ম।

কত স্বপ্ন ছিল তখন দুচোখে।

(.....চলবে)

কুকুর

ঠিক সেই প্রভুহীন কুকুর টির মতই যাকে আর দশজনে নিতে চায়, আদর ভালবাসায় পালতে চায়।
কিন্তু সে কারো হতে চায় না, কি কারন?
বহুদিন আগে যার সে হতে চেয়েছিলো, তারিয়ে দিয়েছে, চেয়েছিল একটু আশ্রয়। তার বন্ধ দরজায় বার বার ঘুরে যায়।
তার দরজা খোলা আছে কি?
খুলেছে কি? না আজো খুলেনি।
না আজো ডাকেনি।
ডাকতেও তো পারে 'এসো' একবার!

ভুলতেছি আমি ভুলের রাজ্যে। তুমি এবং তোমাকে! ভুলে যাচ্ছি চিহ্ন, ভুলে যাচ্ছি চেহেরা। ভুলছি, কি ভুল করছি তাতে! ভুল হচ্ছে দিন রাত, ভুল করতেছ...