Showing posts with label গল্পস্বল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্পস্বল্প. Show all posts

গল্পিকা ১

আর কোন রাস্তা নেই, পীঠ ঠেকে গেছে জানেন। কোন উপায় নেই আর।
যা করার আজকেই করতে হবে।
আসলে আমরা এরোকম টা চাইনি জানেন।
আমাদেরো একটা স্বপ্ন ছিল দেয়ালে ো।
বিশেষ করে ওর, কনের সাঁজে ওকে কেমন লাগবে ওর জানার খুব ইচ্ছে।
গত পয়েলা বৈশাখে যেদিন ও প্রথম শাড়ি পড়লো সেদিন ও কি খুশি!
সেদিন পইপই করে বলে রেখেছিলো আমি যেন পাঞ্জাবী পরে আসি।
আমি ওর সাথে মস্কারা করে বলেছিলাম ধুতি পরে আসি?
মর্ডান মোরের দোকান গুলো থেকে টোপড় টাও কিনে নেওয়া যাবে তারপর কালিমন্দিরে গিয়ে..

সে শুধু বলেছিল "নাহ"
এভাবে বিয়ে করতে পারবো না।
বাবা, মার আশীর্বাদ না নিয়ে বিয়ে করলে অমঙ্গল হয়। সংসার টিকে না।

সেদিন সে হলুদ রঙের শাড়ি পরে মাথায় ফুলের মুকুট দিয়েছিল।
আমি বললাম এ কি সেঁজেছো এ তো পয়েলা ফাল্গুনের সাঁজ।
সে লাজুক হেসে বলেছিল "তুমি বুঝো না,আজ তো আমার গাঁয়ে হলুদ"

বিয়ের কথা উঠলেই ও কল্পনায় ডুবে যেত, মহা ধুমধাম করে আমাদের বিয়ে হবে। কোন কমিনিউটি সেন্টারে না বাড়িতে হতে হবে। কমিনিউটি সেন্টারে বিয়ে ভাল না সবাই আসে না। যায়গায় অল্প
আরো বলতো বিয়ে বাড়ির গেট টা হতে হবে পাহাড়পুরের রতন বেকারিদের দুর্গাপূজোর গেট টির মত বড়।
বিয়ের মন্ডপ টা হতে হবে সেরোকম যেন অর্চিতার বিয়ের মন্ডপটার চেয়েও সুন্দর হয়।
আমি জিজ্ঞেস করি আর বাসর ঘর?
যাও লজ্জা করে না বুঝি বলে মুখ লুকাতো।

আজ আর এসব ভেবে লাভ নেই।
সব সময় কল্পনায় বিভোর, হাসি খুশি পুতুল টা আমার কেমন জানি হয়ে গেছে।
গত কয়েক দিন থেকে হাসিখুশি ভাব টা মরে গেছে, দশমির দিনে দেবী ভাষানের সময় মা, মাসিদের মুখ টা যেমন মলিন হয়ে যায় ঠিক তেমন, হাসে না কথা বলে না।

ওর এই রুপ টা আমি কখনো দেখি নি রিক্সা থেকে নামার সময় বলল হয় কালকেই নয়তো কোন দিনেই নয়।
আসলে কি জানেন ওরা আমারদের স্বপ্ন গুলো মেরে ফেলার জন্য কোন ত্রুটি রাখে নি।

জানি আজকের পর আগামীকাল আমার বাবা, দাদাদের নামে থানায় কেস দায়ের হবে আমাকে এক নাম্বার আসামি করে।
রাতুলের নাম টাও দিবে বোধহয় ওর সাথেই তো সকাল সন্ধা উঠবস আমার ওরা জানে।
খুব খারাপ খারাপ লাগতেছে জানেন আমার জন্য শুধু আমার জন্যই আমার বৃদ্ধ বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, দুই একটা লোকাল পেপারে নিউজ আসবে নাবালিকা অপহরণের।
বিনা অপরাধে রাতুল টাকেও অপহরণকারী হতে হবে।
দাদাদের সামনে তো কখনোই দাঁড়াতে পারবো না ওরা আমাকে পেলে জানে মেরেই ফেলবে বোধহয়!
কিন্তু কিছু করার নাই জানেন যা করার আজকে রাতেই করতে হবে।
ও বলে দিয়েছে হয় আজকে নয়তো কোন দিনেই নয়।
ঠিক একটায় লগ্ন এগারটায় বর আসবে যা করার এগার টা থেকে ১ টার ভিতরেই করতে হবে।
জানেন আমার আর কোন উপায় নেই।
দেয়ালে পীঠ ঠেকে গেছে।

একটি একটি আত্মহত্যার আত্ম কথা

আমি মারা যাচ্ছি এটাই সত্য, এটাই বাস্তব।
হ্যাঁ মরে যাচ্ছি, আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। তাহলে বেঁচে থেকে কি লাভ?
চাইলে আরো আগেই মরে যেতে পারতাম কিন্তু মরি নি, এবার মরে দেখিয়ে দিতে চাই।

আমি এর আগে ভেবে দেখেছি কিভাবে মরা যায়, ভেবেই চলেছি তখন, তাই এর আগে কখনো মরা হয়নি।

এবার ভাবি নি, ভাববো না।
বাজার থেকে কীটনাশকের বোতল টা যেটাতে লেখা ছিল "পাকুস্তলিতে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে বালাইনাশকে অতি কার্যকর"

কিচ্ছুক্ষণ আগে ঢকঢক করে শেষ করেছি। ঠিক সেই ফেন্সিডিলের বোতল টির মত কিছুদিন আগে রাশু খাইয়ে বলেছিল ঢকঢক করে ঢালি দে, এই নে পুরিয়া এবার দুইটা বারি দে দুনিয়াটা নীল হয়ে যাবে।

কিছুই ত হচ্ছে না, তাহলে কি বিষেও ভেজাল?

পাঁচমিনিট হয়ে গেল, ঘামাচ্ছে খুব! মাথাটাও ঝিমঝিম করতেছে। তাহলে কি আমি এবার মারা যাচ্ছি? হ্যাঁ আমি সত্যি সত্যি মারা যাচ্ছি।

মারা যাবোই তো এই দুনিয়ায় কে আছে আমার? কার জন্য বাঁচবো? বেঁচে কি লাভ?
আমার জন্য কেউ কি অপেক্ষায় আছে? না থাকবে? না, কেউ থাকবে না। আমি মারা যেতে চাই।

সেদিন ও চলে গেল, বাড়িতে গেলাম। সারাদিন না খেয়ে থাকলাম কই কেউ তো বলল না খেয়েছি কিনা? মা ও ত জিজ্ঞেস করতে পারতো একবার? করেনি।

আচ্ছা সে ওভাবে চলে যাবার পর,তার কি আমার কথা একবার মনে পরেছিল?  কিছু কি ভেবেছিল আমাকে নিয়ে?
না ভাবেনি একবারো।

আসলে কেউ নেই আমার, বেঁচে থেকে কি লাভ? মরেই যাবো আজ। সত্যি সত্যি মরে যাবো।

কতক্ষণ হলো? দশ মিনিট?  না দশ মিনিট হয়নি এখনো। আট মিনিট ৩০সেকন্ড।

খুব বমি পাচ্ছে, মাথা ঘুরাচ্ছে। আমি মারা যাচ্ছি।

আমি মরে গেলে কেউ কি কাঁদবে? হ্যাঁ মা কাঁদবে বেচারি সারাজীবন শুধু কষ্টই পেয়ে গেল, আমি মরার পর খুব কাঁদবে।
বাবা? কোনদিন কাঁদতে দেখিনি তাকে, ও না কেঁদেছিল,  সব গুলিয়ে যাচ্ছে এখন।

প্রথমবার বমি হলো ওটা খাবার ১০মিনিট পর।

হ্যাঁ বাবাকে একবার কাঁদতে দেখেছিলাম, দিদির বিয়ের সময়। দিদিকে যখন বিয়ের মন্ডবে সম্প্রদান করেছিলো তখন গামছা দিয়ে চোখ মুছতে দেখেছিলাম আমি। খুব ছোট ছিলাম  তখন বাবার কাছেই বসে ছিলাম এখন পরিস্কার মনে পরতেছে। বাবা গামছা দিয়ে চোখ মুছেছিল।
আর তার পর দিন? তারপর দিন ভোরবেলা যখন আমার একমাত্র দিদিকে বিদেয় দেওয়া হয় তখন কি কাঁদেনি? মা, মাসিরা যখন গলা জোড়াজোরি করে কেঁদেছিল তখন বাবা ঘরের দরজা বন্ধ করে কি করেছিল? তখন ছোটছিলাম তখন না বুঝলেও এখন ঠিক বুঝতে পারি।

হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছে মনে হয়।
আমার এখন ঠান্ডা লাগতেছে খুব।
সব কিছু নীল দেখাচ্ছে, দূরে রাস্তায় হেটে, সাইকেলে যাওয়া লোক গুলোকে আবছা দেখাচ্ছে।

খুব শীর্গ্র মরে যাচ্ছি বোধহয়। মরতেই তো চাই। মরার জন্যই তো বিষ খেয়েছি এখনি মরলেও যা আরেকটু পরে মরলেও তা।

আরেকবার বমি করলাম, কতক্ষণ হয়েছে জানি না।

দিদির কথা মনে পরতেছে এখন খুব, সেবার যখন খুব জ্বর হলো এসএসসি পরীক্ষার আগে। দিদি এসেছিল আমার জ্বরের কথা শুনে। সারারাত মাথায় জল ঢেলেছিলো। সারারাত থেমে থেমে বমি করেছিলাম। যখন বমি আসতো, দিদি আমার মাথা টা তুলে ধরে রাখতো। সারারাত ঘুমায়নি সেদিন।

জ্বরের ঘোরে সারারাত প্রলাপ বুকেছিলাম। দিদি সেই সব নিয়ে ঠাট্টা করে আমাকে লজ্জা দিতো। আমি লজ্জা পেয়ে ওর কোলে মুখ লুকাতাম।

আজ আমি মরে গেলে দিদি কি সেই কষ্ট সইতে পারবে? আমি তার একমাত্র ভাই।
মরতে বসেছি।

মনে হয় চেতনা হারিয়েছিলাম!
সন্ধা হয়ে গেছে কি? যখন ওটা খাই তখন বিকেল চারটা।
এখন পুকুরের ওই পার টা ভাল করে দেখতে পাচ্ছি না।
রাস্তায় লোক চলাচল কমে গেছে।

আমি মরে যাচ্ছি, আমি মরে যাচ্ছি।
আচ্ছা আমি কি সত্যি সত্যি মরে যাচ্ছি?

আমি যদি মরে যাই তবে কি হবে?
পুকুরপাড়ের এই খেজুড় গাছ টায় যে বড় বড় খেজুর ধরে, কয় মাস পরেই যে ইয়া বড় বড় হবে আমি কি আর খেজুর খেতে পারবো না?

ধুর আমি এসব কি ভাবতেছি? আমার মাথা ঠিক আছে তো?

মার কথা খুব মনে পড়তেছে, আমি মরে গেলে মার খুব কষ্ট হবে, গতবার রাতুল টা যখন পানিতে ডুবে মারা গেল ওর মার কি কান্না! রাতুলের বুকের উপর ঝাঁপিয়ে ওর মা কাঁদতেছিল "একবার কথা কয়েক বাপ, একবার মোক মা ডাকেক, রাতুলডে, মোর সোনা বাপ"

আমার মা ও তো কাঁদবে। আমার কি এটা ঠিক হচ্ছে?
আর দিদি?

বাবা তো কারো সাথে কথাই বলবে না, দিদিকে বিদায় দিয়ে যেভাবে সেদিন কারো সাথে আর কথা বলেনি।

আমি মরে গেলে লালুকে তিন বেলা ভাত খেতে দিবে কে?

মা তুমি কই? বাড়ি থেকে বের হবার সময় তুমি কেন আমাকে আটকালে না? মা তুমি কই?
সব দোষ তোমার। তুমি আটকালে আমি কি বিষ খেতে পারতাম।  মা তুমি কই?

তুমি অন্য দিনের মত আজ আমার বিছানা ঠিক করে দিলে না কেন? বিছনা ঠিক করতে আসলেই তো আমার বালিশের নিছে বিষের বোতল টা পেতে।

মা তুমি কই, আমি মরতে চাই না মা।
মা আমাকে বাঁচাও....

ভুলতেছি আমি ভুলের রাজ্যে। তুমি এবং তোমাকে! ভুলে যাচ্ছি চিহ্ন, ভুলে যাচ্ছি চেহেরা। ভুলছি, কি ভুল করছি তাতে! ভুল হচ্ছে দিন রাত, ভুল করতেছ...