Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

শুভ বিবাহঃ হিন্দু পাত্র-পাত্রী আবশ্যক

এই যে শুনেন, একটু থামুন।
এদিকে শুনুন, ওদিক দেখুন।
কারো ঘোষ চাই, কারো বোস চাই
তেনার আবার মজুমদারেও সমস্যা নাই!
পাত্রী আছে, পাত্র চাই।
লম্বা, ফর্সা, অনিন্দ্য সুন্দরী
সাহা হলে ভালো হয় না হলেও সমস্যা নাই!
পাত্রী চাই, একটা ছেলে আছে
তবে কি জানেন ৫.৪" নিচে,
ডিভোর্সি -বিবাহিতাদের(!) নক করার দরকার নাই।
এই যে দাদা শুনছেন তো?
আপনাকেই বলতেছি..
পাত্র চাই,
মেয়ে ডিভোর্সি,
আরতী দাস
গায়ের রং ফর্সা
ঠাকুর ভক্ত,ঘরোয়াও সংসারী।
গোত্র আলিমান্য।
হিন্দু হলেই হবে জাত পাত
কোনো ভেদাভেদ নাই।
নমস্কার! আমিও আছি দোলা মুনি
প্রিয় দিদির জন্য ভাল মনের জিজু চাই-পাত্রকে হতে হবে উচ্চ শিক্ষিত (সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ থেকে ন্যূনতম ব্যাচেলর পাশ) ,
সৎ ও চরিত্রবান,আস্তিক/ধার্মিক, সরকারী/স্বায়ত্তশাসিত/বেসরকারী চাকরিজীবি/
ব্যাবসায়ী, উচ্চতা ৫.৬" থেকে উর্ধ
এর নিচে কোন কথা নাই।
পাত্রী চাই! পাত্র সরকারি চাকরীজীবী
সুন্দরী, লম্বা, ভদ্র, ধার্মিক, প্রেম ভালবাসার কোন হিস্ট্রি নাই।
স্বল্প শিক্ষিত হলেও সমস্যা নাই।
এসো প্রেয়সী বিবাদে জোড়াই।
আমি প্রতিবন্ধী, তুমি অভিমানী হও, অভিমান কর বৃথাই।

ভাল মানুষ

ভাল মানুষ তো শুধু ভাল নয় বহু ধরনের হয়।
ভাল মানুষ বোকা হয়
ভাল মানুষ বাচাল হয়
ভাল মানুষের ইগো হয়
ভাল মানুষ পাগল হয়
কিছু ভাল মানুষ ছাগল হয়
কিছু ভাল মানুষ মূর্খ হয়
সব ভাল মানুষ আদতেই ভাল নয়।
সাবধান করার পরেও আগুনে হাত দিয়েছি বলেই তো পুড়েছে। এখন ভেবেই কি বা লাভ??
নীতি কথা আমি শুনি না।
একবার পুড়েছি যখন আজীবন পুড়বো। ভেবেছো কি তিস্তার পানি? এক বাধেঁই শুকিয়ে যাবে?
তোমার বুকে এখনো কি পদ্মা মেঘনা বহে?
মানুষ কেন মরে যায় সামান্য পেট ব্যাথায়?
কি অবাক করা ব্যাপার তাই না?
তারো আরেকটু উপরে কি কঠিন ব্যাথা নিয়ে অবলীলায় বেঁচে আছি আজ সহস্র বছর!

মৃত্যু

আজ আর কোন গল্প নেই।
মরন দেখে এলাম খাটের উপর বাঁশের তালায় ঝুলে আছে।
জানো এখন ভাল থাকতে আমার একদম কষ্ট হয় না।
খুব সহজ ভাবেই ভাল থাকি।
দূর আকাশের কালো মেঘ গুলোর মত ভেসে ভেসে,
খাঁচায় বন্দি পাখিটির মত আপন সুখে গান গাই।
খুব সহজেই ভাল থাকি এখন তোমাকে ছাড়াই!
ভালবাসা তো আর পানি নয় আন্তর্জাতিক আইনও নেই।
তাই উজানের প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সরকার,
বাঁধ দিয়ে যায়।
ভালবাসা প্রত্যাহার করে নেয় বারবার।

লাশ

দুহাতে একটা লাশ নিয়ে বসে আছি
নবীন কবির আধুনিকতার নামে অত্যাচারে অপমৃত্যু হয়েছে তার।

বালিকা এবং কুকুর

অসংখ্য মাংস লোভী কুকুরের দল দেখে আসলাম বালিকার সারা উঠোন জুড়ে।
কেউ কেউ লেজ নাড়িয়ে বালিকার মনোযোগ পেতে সদা ব্যস্ত।
সারা উঠোন জুড়ে গড়াগড়ি দিতেও দেখলাম কয়েকটাকে।
দূরে বসে আয়েশি ঢঙে লালা ঝড়াচ্ছে বুড়ো কুকুরের দল।
উঠোনের পিছনে খিড়কী দরজায় আরেক দলের আনাগোনা।
কে নেই তাতে? সদ্য বয়ঃপ্রাপ্ত অতি উৎসুক নবীন কুকুরের দল থেকে দলের সবচেয়ে গুরুগম্ভীর বৃদ্ধ কুকুরটিও।
বালিকার মন যোগাতে অতি ব্যস্ত।

তুমি একটিবার চাইলেই

জানো ভূমি তুমি চাইলেই, শুধু তুমি একটি বার চাইলেই হতে পারতে আমার সব কিছুর ভূমিকা।

তুমি একটি বার চাইলেই হতে পারতো কত কিছু!
এসাথে দেখা হত কত ভোর, শেষ বিকেলের সূর্যাস্ত।

তুমি চাইলেই গোধূলি তে গোনা হত একসাথে, কত সহস্র ঘর ফেরা পাখি।

শুধু একটিবার তুমি চাইলেই কত পুর্ণিমার রাতে হতো রাত জাগা!

ভেবে দেখেছো কি কখনো?

তুমি একটি বার চাইলেই গুনতে পারতাম অমাবস্যায় হারিয়ে যাওয়া দু একটা তারা।

জানি তুমি চাওনি কখনোই।
চাওয়াচাওয়ি হয়নি কখনোই।
আর হবেও না কখনো, ভোরের সূর্যোদয়, পুর্ণিমারাত, গোধূলিতে পাখিদের ঘরে ফেরা।

মন পোষাক

মন পোশাকের রং বদলেছে বহুবার!
কোনটাই স্থায়িত্ব পায়নি।
ফাগুনের আগুনে রঙ্গিন হয়েছে
চৈত্রের তাপে ধূসর হয়েছে
একের পর এক রঙ নিয়েছে বার বার!
কোন এক বর্ষায় কার জানি অপেক্ষায়
রঙ বদলেছিলো আরেকবার
ধবে ধবে সাদা রং!
অন্য এক সময় অন্য এক ঋতুতে পরেছিলো কালো রঙ
কার শোকে এ বেশ হে মহামান্য মন?
উত্তর আসেনি।
প্রশ্ন লিখে যাই সাদা চকে কালো দেয়াল ধরে একের পর এক লাইন।

আমার গ্রাম্য বালিকা প্রেমিকা

আমার গ্রাম্য বালিকা প্রেমিকা কখনোই বলেনি "আমি তোমাকে ভালবাসি "

"ভালবাসি" উচ্চারণ করার আগেই লজ্জায় মরে যেত সে শতবার।

গল্পের গল্প

তারপর একদিন ছাইচাপা আগুনের মত জমানো ক্ষোভ গুলো হঠ্যাৎ করেই বিক্ষোভে রুপ নিলো। নাম হীন গল্প গুলো যারা এতদিন এলোমেলো নিরীহ ভাবে ঘুরে বেড়াতো এ গলি, ও গলিতে।
তারাও দাবি নিয়ে রাজপথ দখল করে বসলো,  আমাদের নাম দাও, শরীর দাও। চরিত্র গুলো আমরণ অনশনে বসলো দাবি একটাই তাদের আকার দাও, দিতে হবে পরিচয়।
অকাল গর্ভপাতে মৃত গল্পের আত্মরাও এসে হাজির সে বিক্ষোভে, তাদের দাবি এই অন্যায়ের বিচার চাই, তাদের দিতে হবে পুনজন্ম আবার!

ব্যার্থ প্রণয়ে গর্ভধারণ, তারপর অকাল গর্ভপাতে মৃত কবিতা গুলো নিরবে দাঁড়িয়ে রইলো বিক্ষোভের আরেক পাশে!

আন্দোলন দমনে শহরজুড়ে আর্মি এলো, বলবত হলো সান্ধ আইন।
শত অত্যাচার, প্রলোভনেও  বিক্ষোভ কমলো না, আন্দোলন থামলো না।

দাবি একটাই নাম চাই, শরীর চাই, আকার চাই।

তোমরা অপূর্ণাঙ্গ, তোমাদের এই অবস্থায় বের করে আনলে তোমরা শুধু বোঝা হবে সবার। শত শত কলাম লিখলো দৈনিকে, টিভিতে টকশোতে গলা চড়ালো ভাড়াটে যত বুদ্ধিজীবী গন।

তবুও বিক্ষোভ কমলো না, আন্দোলন থামলো না।
অবশেষে মেনে নেওয়া হলো সব দাবি শর্ত একটাই কর্তার ইচ্ছায় একে একে নাম, আকার, শরীর পাবে সবাই।

প্রথম জন্ম পেল একটি কবিতা "বৈশাখ এলেই আমি উত্তেজিত হয়ে যাই"।

আমাদের ঈশ্বর

গতরাত টা কাটিয়ে এলাম ঈশ্বরের সাথে।
কলা,দুধ নারিকেল ফল প্রসাদ ভাগে জুটেছিলেও বেশ।
শহরের সবচেয়ে বড় মন্দিরে তিনি আশীর্বাদ করলেন পূঁজা শেষে "আরো বড় হও"।
আমি জিজ্ঞেস করলাম এখনোই আকাশ ছুঁয়ে যায়,  মন্দির আর কত বড় হবে প্রভু?
চুপ কর মূর্খ, যত বড় মন্দির ততোই নাম, ততোই বাড়বে মোর আরাধনা, প্রভাব।
সাহা পাড়ার ধনীদের গৃহে পূঁজায় তুষ্ট হয়ে বর দিলেন, "ধনবান,জোশবান হও!"
ভয়ে ভয়ে বললাম, প্রভু এদের তো অনেক আছে, যাদের নেই তাদেরো দাও।
রুষ্ট চোখে মুখ ফিরিয়ে প্রভু ঈশ্বর চলিলেন এবার নন্দীদের ভাঙা গৃহে।
অল্প প্রসাদে, সল্প আয়োজনে বেজার ঈশ্বর চলিলেন মাঝ রাজ পথ ধরে।
জিজ্ঞাস করলাম, প্রভু তোমার এ কেমন বিচার?
রাগত স্বরে তিনি বলিলেন মূর্খ মানব, অকৃতজ্ঞ হতে পারিস তুই, আমি ঈশ্বর অকৃতজ্ঞ নই।
যারা আমার প্রচার করেছে, যাদের জন্য টিকে আছি তাদের প্রাপ্য আমি ঠিকই দেই।

মৃত অনুভূতি

এর চেয়ে কি মৃত্যু শ্রেয় নয়?
অর্ধমৃত অনুভুতি কার বা প্রাণে সয়।
অর্ধেক টুকু মরে গেছে, আর অর্ধেক
টুকু হয়ে গেছে নির্বোধ।
বিনা কারনে, অন্যায্য দাবীতে
মনের মাঝে সকাল সন্ধা চলছে
অবরোধ।
April 28, 2014 at 7:09am

পশু!

মাঝে মাঝে ভেতরের পশুটার
লাগাম ছিঁড়ে যায়।
হয়ে যায় হাতির মত মস্ত!
তসনস করে দিতে চায়
প্রতিবেশীদের ফুল বাগান, পাকা
ধান খেত।
বিবেকের ডোরে বেঁধে রাখি
তবুও উনাদের মত কাউকে বলতে
পারি না বাগানে বেঁড়া দেন, মম
হাতি মস্ত!

লাশ!

ভেতরে কিছু একটা মরে গেছে,
মাঝে মাঝে পচে যাওয়ার গন্ধ
পাই।
দুচোখ বুজলেই তার কিছু আফছা
অতীত দেখতে পাই।

মুখোশের আড়ালে

শুয়ার গুলোও জাতে উঠতে চায়,
শিয়াল গুলা নারীবাদী।
October 26, 2014 at 10:50am ·

ভুলতেছি আমি ভুলের রাজ্যে। তুমি এবং তোমাকে! ভুলে যাচ্ছি চিহ্ন, ভুলে যাচ্ছি চেহেরা। ভুলছি, কি ভুল করছি তাতে! ভুল হচ্ছে দিন রাত, ভুল করতেছ...