লাশ

দুহাতে একটা লাশ নিয়ে বসে আছি
নবীন কবির আধুনিকতার নামে অত্যাচারে অপমৃত্যু হয়েছে তার।

বালিকা এবং কুকুর

অসংখ্য মাংস লোভী কুকুরের দল দেখে আসলাম বালিকার সারা উঠোন জুড়ে।
কেউ কেউ লেজ নাড়িয়ে বালিকার মনোযোগ পেতে সদা ব্যস্ত।
সারা উঠোন জুড়ে গড়াগড়ি দিতেও দেখলাম কয়েকটাকে।
দূরে বসে আয়েশি ঢঙে লালা ঝড়াচ্ছে বুড়ো কুকুরের দল।
উঠোনের পিছনে খিড়কী দরজায় আরেক দলের আনাগোনা।
কে নেই তাতে? সদ্য বয়ঃপ্রাপ্ত অতি উৎসুক নবীন কুকুরের দল থেকে দলের সবচেয়ে গুরুগম্ভীর বৃদ্ধ কুকুরটিও।
বালিকার মন যোগাতে অতি ব্যস্ত।

নামহীন (উপন্যাস)

ততোদিনে সব কিছু সয়ে গেছে এই পোড়া শরীরে।
নতুন কিছু নেই রাতে বাবুরা আসে ঘাম ঝড়িয়ে যায়, ম্যানিব্যাগ হতে চকচকে নতুন একশ, পাঁচশ টাকার নোট, ময়লা,শতভাজ পরা টাকা সব চলে, যা আসে তাতেই মাসী খুশি হয়।
তেমন কঠিন কিছু লাগে না আর মনের দরজা বন্ধ করে চিত হয়ে শুয়ে থাকলেই হলো।
কাজলি আপা বলে যায়, মাগি বেশি নকরামি করবি তো বুঝবি। তার চেয়ে সব মাইনা নে।
এটাই আমাগো জীবন রে বইন।
মনের ঘরে তালা বাইন্ধা শুইয়া থাকবি, চার পাঁচ মিনিটেরি তো ব্যাপার।  সব বেটাগোর দম দেহা আছে। দুই মিনিটেই মাল আউট।
ঘামের গন্ধ আইলে দম বন্ধ করে শুইয়া থাকবি।

এই নোংরা, নষ্ট জীবনেও মাঝে মাঝে কৌতুহল আসে, কাজলি আপা কে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে "তুমি তো আমাদের মত করে কথা বলতে পারো তাহলে এরোকম করে কথা বলো কেনো? তুমি তো মুক্ত, আমার মত কোন মাসী নামের ডাইনি তোমাকে আটকে রাখেনি তুমি এই নরক থেকে চলে যাও না কেন?"

আমাকে চুপ থাকতে দেখে কাজলি আপা বলে উঠে, ঐ মাগি, চুপ করে আছো কেন? কি বুঝলা? এইহানের নিয়ম কানুন যত তারাতারি মাইনা নিতে পারবা, শিখতে পারবা ততো ভাল থাকবা বুইজ্জো?

যাইগা, নিজেরে সাইজা গুইজা লও। বাবুসাব গনের আহনের টাইম অইতাছে।

কোথায় ছিলাম আমি, আর এখন কোথায়!
দিনাজপুর! সুখের নীর, বাবা, মা, বোন কে ছেড়ে তাদের কাঁদিয়ে কত স্বপ্নে বিভোর হয়ে বের হয়ে ছিলাম আমি!

ঐ ছেমড়ি সাইজা লও আট টা বাজে বাবুদের আহনের টাইম হইছে।

বিকেল সারে পাঁচটার বাসে উঠেছিলাম আমরা, হানিফ পরিবহন। কালিতলার থানার পাশের কাউন্টারে। ঢাকা টু চট্টগ্রাম।
স্পষ্ট মনে আছে কাউন্টারের পাশের দোকান থেকে সে আমার জন্য হাফ লিটারের প্রাণ কোম্পানির আমের জুস কিনে এনেছিলো।

বলেছিলো, বেবি তুমি একদম দুশ্চিন্তা করো না, আই উইল ম্যানেজ। এভেরিথিং উইল বি ফাইন। আমরা প্রথমে কক্সেসবাজার যাবো, সেন্টমার্টিন যাবো কয়েকদিন সেখানে হানিমুন করে ঢাকায় ব্যাক করবো। আমি জবে জয়েন করবো। আর এই কয়দিনের ভিতরে আমার ফ্রেন্ড আমাদের জন্য বাসা ম্যানেজ করে ফেলবে।

আমার তার উপর বিশ্বাস ছিল।
তৃতীয়বার যখন দুর্ঘটনা টি ঘটলো আমি চাইনি একদম চাইনি আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো।
আমি তাকে বিশ্বাস করতাম।
সে বলেছিলো, বেবি লেট মি হ্যান্ডেল দিজ, তুমি এইবারের মত আমার কথা শুনো এটা ফেলে দাও। আমি কথা দিচ্ছি আই উইল টেক ইউ এ্যা লং এওয়ে।

সে কথা রেখেছে, আজ আমরা যাচ্ছি। আমাদের সুখের সংসার হবে। কেউ থাকবে না বাঁধা দেওয়ার। না সমাজ না ধর্ম।

কত স্বপ্ন ছিল তখন দুচোখে।

(.....চলবে)

কুকুর

ঠিক সেই প্রভুহীন কুকুর টির মতই যাকে আর দশজনে নিতে চায়, আদর ভালবাসায় পালতে চায়।
কিন্তু সে কারো হতে চায় না, কি কারন?
বহুদিন আগে যার সে হতে চেয়েছিলো, তারিয়ে দিয়েছে, চেয়েছিল একটু আশ্রয়। তার বন্ধ দরজায় বার বার ঘুরে যায়।
তার দরজা খোলা আছে কি?
খুলেছে কি? না আজো খুলেনি।
না আজো ডাকেনি।
ডাকতেও তো পারে 'এসো' একবার!

হঠ্যাৎ করে ভালবাসি বলে চমকে দে না আমায়

হটাৎ করে ভালবাসি বলে চমকে
দে না আমায়।
আজ বিনা মেঘে বজ্রপাত হউক।
শিলাবৃষ্টির মত গোটা গোটা
ভালবাসা ঝড়ে পড়ুক।
June 15, 2014 at 8:18pm

তুমি নেই

তোমার নিরুদ্দেশ হবার পর হাতে অনেক অখন্ড সময়।
তোমাকেই নিয়ে ভাবি শুধু বললে ভুল হবে সময় মত খাই, ঘুমাই,গোসুল করি আর স্বাভাবিক ভাবে সব কিছুই করি আগের মত!
কি আজব! তাই না?
ভাবি সারাটাদিন রাত, রাতে ঘুম হয় না জানো? এটাকেই কি ভালবাসা বলে? তোমার প্রতি আমার ভালবাসা? এটুকুই?
নদীর পার ভেঙে হৃদয়ের মাঝখানে যে বিশাল গাঙ্গের শুণ্যতা তৈরি হয়েছে তার গভীরতা বুঝতে পারি জানো।
তার পরেও প্রশ্ন ঊঁকি দেয় এটুকুই ভালবাসা?  মাত্র এটুকুই?
এটাকেই ভালবাসা বলে?
তুমি নেই! এটুকুতেই সব হয়ে গেলো?
তুমি নেই! কেউ বুঝতে পারতেছে না জানো,কেউ না!
তুমি না থাকাটা যে কি
কেউ বুঝতে পারতেছে না!
চোখ দুটোকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয় আমার ঘুম নেই ব্যাস! আর কিছু না!
বুকের মাঝে যার টের পাই তাকে বলি সে উত্তর দেয় আমায় শূন্যতা ভর করেছে! ব্যাস!
দেখেছো সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত! ভালবাসা কই?
তুমি নেই কেউ বুঝতে পারতেছে না!
তুমি নেই! ভাবা যায়?
খুব বড় গলায় বলে ছিলো যে ৫৫'র পরে রবো তোমার অপেক্ষায় সেও আজ কিছু বলে না!
আসলেই কি জানো এখন ভাবি সব কিছুর বোধহয়  প্রয়োজনে ছিলো!
তুমি নেই কেউ বুঝতে পারতেছে না।
তুমি নেই!

গল্পিকা ১

আর কোন রাস্তা নেই, পীঠ ঠেকে গেছে জানেন। কোন উপায় নেই আর।
যা করার আজকেই করতে হবে।
আসলে আমরা এরোকম টা চাইনি জানেন।
আমাদেরো একটা স্বপ্ন ছিল দেয়ালে ো।
বিশেষ করে ওর, কনের সাঁজে ওকে কেমন লাগবে ওর জানার খুব ইচ্ছে।
গত পয়েলা বৈশাখে যেদিন ও প্রথম শাড়ি পড়লো সেদিন ও কি খুশি!
সেদিন পইপই করে বলে রেখেছিলো আমি যেন পাঞ্জাবী পরে আসি।
আমি ওর সাথে মস্কারা করে বলেছিলাম ধুতি পরে আসি?
মর্ডান মোরের দোকান গুলো থেকে টোপড় টাও কিনে নেওয়া যাবে তারপর কালিমন্দিরে গিয়ে..

সে শুধু বলেছিল "নাহ"
এভাবে বিয়ে করতে পারবো না।
বাবা, মার আশীর্বাদ না নিয়ে বিয়ে করলে অমঙ্গল হয়। সংসার টিকে না।

সেদিন সে হলুদ রঙের শাড়ি পরে মাথায় ফুলের মুকুট দিয়েছিল।
আমি বললাম এ কি সেঁজেছো এ তো পয়েলা ফাল্গুনের সাঁজ।
সে লাজুক হেসে বলেছিল "তুমি বুঝো না,আজ তো আমার গাঁয়ে হলুদ"

বিয়ের কথা উঠলেই ও কল্পনায় ডুবে যেত, মহা ধুমধাম করে আমাদের বিয়ে হবে। কোন কমিনিউটি সেন্টারে না বাড়িতে হতে হবে। কমিনিউটি সেন্টারে বিয়ে ভাল না সবাই আসে না। যায়গায় অল্প
আরো বলতো বিয়ে বাড়ির গেট টা হতে হবে পাহাড়পুরের রতন বেকারিদের দুর্গাপূজোর গেট টির মত বড়।
বিয়ের মন্ডপ টা হতে হবে সেরোকম যেন অর্চিতার বিয়ের মন্ডপটার চেয়েও সুন্দর হয়।
আমি জিজ্ঞেস করি আর বাসর ঘর?
যাও লজ্জা করে না বুঝি বলে মুখ লুকাতো।

আজ আর এসব ভেবে লাভ নেই।
সব সময় কল্পনায় বিভোর, হাসি খুশি পুতুল টা আমার কেমন জানি হয়ে গেছে।
গত কয়েক দিন থেকে হাসিখুশি ভাব টা মরে গেছে, দশমির দিনে দেবী ভাষানের সময় মা, মাসিদের মুখ টা যেমন মলিন হয়ে যায় ঠিক তেমন, হাসে না কথা বলে না।

ওর এই রুপ টা আমি কখনো দেখি নি রিক্সা থেকে নামার সময় বলল হয় কালকেই নয়তো কোন দিনেই নয়।
আসলে কি জানেন ওরা আমারদের স্বপ্ন গুলো মেরে ফেলার জন্য কোন ত্রুটি রাখে নি।

জানি আজকের পর আগামীকাল আমার বাবা, দাদাদের নামে থানায় কেস দায়ের হবে আমাকে এক নাম্বার আসামি করে।
রাতুলের নাম টাও দিবে বোধহয় ওর সাথেই তো সকাল সন্ধা উঠবস আমার ওরা জানে।
খুব খারাপ খারাপ লাগতেছে জানেন আমার জন্য শুধু আমার জন্যই আমার বৃদ্ধ বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, দুই একটা লোকাল পেপারে নিউজ আসবে নাবালিকা অপহরণের।
বিনা অপরাধে রাতুল টাকেও অপহরণকারী হতে হবে।
দাদাদের সামনে তো কখনোই দাঁড়াতে পারবো না ওরা আমাকে পেলে জানে মেরেই ফেলবে বোধহয়!
কিন্তু কিছু করার নাই জানেন যা করার আজকে রাতেই করতে হবে।
ও বলে দিয়েছে হয় আজকে নয়তো কোন দিনেই নয়।
ঠিক একটায় লগ্ন এগারটায় বর আসবে যা করার এগার টা থেকে ১ টার ভিতরেই করতে হবে।
জানেন আমার আর কোন উপায় নেই।
দেয়ালে পীঠ ঠেকে গেছে।

ভুলতেছি আমি ভুলের রাজ্যে। তুমি এবং তোমাকে! ভুলে যাচ্ছি চিহ্ন, ভুলে যাচ্ছি চেহেরা। ভুলছি, কি ভুল করছি তাতে! ভুল হচ্ছে দিন রাত, ভুল করতেছ...